Monday, April 6, 2020

#শবে_বরাত : #পালনীয়_ও_বর্জনীয়_আমলসমুহ ।



‘শবে বরাত’ শব্দটি ফারসি। ‘শব’ অর্থ রজনী, রাত। ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য, সৌভাগ্য। বাংলায় এর অর্থ হল, ‘সৌভাগ্যের রজনী।’ আর ‘বরাত’ শব্দটি যদি আরবী-‘বারাআত’ এর বিকৃতরূপ হয়ে থাকে তাহলে অর্থ হবে, মুক্তির রজনী। শবে বরাত শব্দটি কুরআন হাদীস কোথাও পাওয়া যায় না, যাবেও না। কুরআন-হাদীসের কোথাও শবে বরাত শব্দটি না থাকায় এর কোন প্রমাণ নেই- এমন মনে করাটাও ঠিক না। কারণ এটি ফারসি শব্দ। তাই কুরআন-হাদীসে না থাকাটাই স্বাভাবিক। যেমন- নামাজ ও রোজা। শব্দ দু’টি কুরআন-হাদীসের কোথাও খুজে পাওয়া যাবে না। তাই বলে কি নামাজ রোজার কোন প্রমাণ নেই? নামাজ ও রোজা শব্দ দু’টিও ফারসি। আমরা উপমহাদেশের লোকেরা ‘সালাত’ কে নামাজ ও ‘সউম’ কে রোজা বলি। সালাত আদায় ও সউম পালনের আদেশ যেহেতু কুরআন-হাদীসে আছে, তাই শব্দ পরিবর্তনের কারণে নামাজ ও রোজাকে ভিত্তিহীন বলা যাবে না।

অনুরূপ শবে বরাত শব্দটি কুরআন হাদীসে না থাকলেও শবে বরাত বলতে আমরা যে দিনটিকে বুঝি তার কথা হাদীসে এসেছে। শবে বরাত হল আরবী শা’বান মাসের ১৫তম রজনী (অর্থাৎ ১৪ তারিখ দিবাগত রাত)। হাদীসে একে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান’ (অর্ধ-শা’বানের রাত অর্থাৎ ১৫ শা’বান) বলা হয়েছে। সুতরাং শবে বরাত শব্দ হাদীসে নাই এ দাবী তুলে এর ফজিলতকে একেবারে ভিত্তিহীন বলে দেয়া কখনই কাম্য নয়।

*📚শবে বরাত‘ সৌভাগ্য বা মুক্তির রাত:⬇⬇*

হাদীসে শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে যে ঘোষণা এসেছে তার প্রতি লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়, এ রাত বাস্তবেই সকল মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের রাত। গোনাহ থেকে মুক্তিলাভের রাত। হাদীসে এসেছে-

*عن معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن*

অর্থাৎ, হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযি)* থেকে বর্ণিত, নবী কারীম *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বলেন, “আল্লাহ্ তা'আলা অর্ধ-শাবানের রাতে (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। তখন মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।” *[সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ৫৬৬৫]*

এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে, এ রাতে আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে সৃষ্টির প্রতি রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার ব্যপকভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তার অফুরন্ত রহমতের বারিধারা বিশেষ শ্রেণীর কিছু লোক ছাড়া সকলের উপরেই বর্ষিত হয়। তাই তার রহমত ও মাগফিরাত প্রত্যাশি সকল ব্যক্তির জন্যই উচিত হল এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটিয়ে সৌভাগ্যবানদের কাতারে নিজেকে শামিল করা। অবহেলা করে কিংবা গোনাহে লিপ্ত হয়ে এ রাতের মহত্ত্ব থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা কোনভাবেই কাম্য নয়।

এ হাদীস ছাড়াও অন্যান্য হাদীসে অর্ধ শা’বানের রাতে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে ব্যাপক মাগফিরাতের ঘোষণা এসেছে। তাই এ রাত শবে বরাত তথা সৌভাগ্য বা মুক্তির রাত নামে প্রশিদ্ধি লাভ করেছে।

*📚শবে বরাতে করণীয় আমল:⬇*

আমরা পূর্বের আলোচনার মাধ্যমে এ কথা বুঝতে পেরেছি, রহমত ও মাগফিরাত প্রত্যাশি সকল মুমিনের জন্য এ রাত ইবাদত-বন্দেগীতে কাটিয়ে দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে তো সবচায়ে উত্তম হল এমন আমল করা, যা রাসূল *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* কিংবা সাহাবাগণ করেছেন। এমন কোন আমলের কথা জানা গেলে তা করাই সবচেয়ে ভাল হবে। তাই এ রাতে আমলযোগ্য একটি নির্ভরযোগ্য হাদীস পাঠকের সামনে তুলে ধরছি।

হযরত আলা ইবনুল হারিস রহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রাযি:) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা অথবা বলেছেন, ও হুমাইরা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)* তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ্ তা'আলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষপোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।‘ *[শুআবুল ঈমান, বাইহাকী: ৩/৩৮২-৩৬৮]*

এ হাদীস থেকে বুঝা যায় এ রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ পড়া। যাতে দীর্ঘ সেজদা করা হবে। পারলে দীর্ঘ ক্বেরার পড়বে। আমাদের দেশে কিছু ‘নামাজ শিক্ষা’ বই-এ নির্দিষ্ট কিছু নিয়মে নামাজ পড়ার কথা লেখা আছে। প্রথম রাকাতে অমুক সূরা এতবার, দ্বিতীয় রাকাতে এতবার ইত্যাদি। এ সকল নির্দিষ্ট নিয়মের কথা কোন হাদীসে পাওয়া যায় না। এগুলো মানুষের মনগড়া পদ্ধতি। আমরা স্বাভাবিকভাবে যেভাবে নফল নামায পড়ি, সেভাবেই দু’রাকাত করে যে কোন সূরা দিয়ে যত রাকাত সম্ভব নফল পড়ব। আর কারো কাজা নামায থাকলে তাও আদায় করে নিতে পারেন। মাঝে মাঝে ক্লান্তি দূর করার জন্য তাসবিহ পড়া যেতে পারে। এছাড়াও করণীয় হল, কুরআন কারীম তেলওয়াত, দরূদ শরীফ, ইস্তেগফার ও দুআ ইত্যাদি আমলের মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করা। তবে একথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, এমন যেন না হয়, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে আমার ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না! তাই সারা রাত না পারলে নিজের সাধ্যানুযায়ী যতক্ষণ পারা যায় ইবাদত করতে হবে।


  *📚পরদিন রোজা রাখা:⬇⬇*

শা’বানের ১৫ তারিখে রোজা রাখার ব্যপারে হাদীসে এসেছে, হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (রাযি:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বলেছেন, পনের শাবানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোযা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ্ তা'আলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব। এভাবে সুব্হে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন। *[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩৮৪]*

এ হাদীস থেকে শা’বানের ১৫ তারিখ রাতে ইবাদতের মাধ্যমে কাটানো এবং পরদিন রোজার আমলের কথা জানা যায়। তাই অনেকেই এ দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব বলেছেন। শা’বান মাসে এমনিতেই রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বেশী বেশী রোজা রাখতেন। ১ম শা’বান থেকে ২৭তম শা’বান পর্যন্ত রোযা রাখার যথেষ্ট ফযীলত রয়েছে এছাড়াও শাবানের ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজ তথা আরবী মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের অন্তর্ভুক্ত। আইয়ামে বীজে রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* রোজা রাখতেন তা সহীহ হাদীসের মাধ্যমে স্বীকৃত। তাই মুসলমান ভাই-বোনদের প্রতি আমার আহবান হল, এ সকল হাদীসের বিবেচনায় পুরো শা’বান মাস জুড়েই (২৭ শা’বান পর্যন্ত) বেশী বেশী রোজা রাখা উচিত। তা না পারলে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা রাখা। তাও সম্ভব না হলে অন্তত ১৫ তারিখের রোজা রাখা। আশা করি আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের শা’বান মাসের ফজিলত থেকে মাহরূম করবেন না।

*📚শবে বরাতে যেসকল আমল কাম্য নয়:⬇⬇*

ইতিপূর্বে এ রাতে রাসূল *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* এর আমল সম্পৃক্ত একটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে নবীজী একাকী আমল করেছেন। তাই এ থেকে শিক্ষা নিয়ে বলতে হয়, এ রাতে দলবদ্ধভাবে মসজিদে একত্রিত হয়ে নফল ইবাদত না করে বাড়িতে একাকী করাই কাম্য। তা ছাড়া নফল ইবাদত বাড়িতে করাই উত্তম। সবার উপর বাড়িরও একটি হক থাকে। ইবাদতের মধ্যমে নিজ বাড়িকে আবাদ করা চাই। এ রাতে দলে দলে মসজিদে সমাবেত হয়ে ইবাদত করার বিষয়টিকে আমরা জরুরী মনে করি। অথচ এ বিষয় সম্পর্কে হাদীসেও পাওয়া যায় না। তাই আমরা নফল ইবাদতগুলো বাড়িতেই আদায় করব। এটাই সবচেয়ে ভাল।তবে যদি কোন আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে যার যার আমলে মশগুল থাকবে। এমন কোন কাজ করবে না, যাতে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

কোন কোন জায়গায় এ রেওয়াজ আছে যে, এ রাতে মাগরিব বা ইশার পর থেকেই বাহিরের মাইক চালু করে ওয়াজ-নসীহত শুরু করা হয়। আবার কোথাও ওয়াজের পর মিলাদ-মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে এমনভাবে মাইক চালানো হয়, যার দ্বারা মসজিদ বা মাহফিলের বাহিরের মানুষদের বাধ্য হয়ে ওয়াজ শুনতে হয়। এ ধরণের কাজ করা ঠিক না। কেননা শবে বরাতের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আলোচনা আগেই করে নেয়া যায়। অন্যথায় ইবাদতে আগ্রহী মানুষের পক্ষে ঘরে বসে একাগ্রতার সাথে ইবাদত করাও সম্ভব হয় না এবং মসজিদেও কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদত মন দিয়ে করা যায় না। তাই আমাদেও সকলের জন্য উচিৎ হল, এ রাতে যারা নিরবে বসে আমল করতে চায় তাদের জন্য সুযোগ করে দেয়া।

   *📚যেসকল কাজ বর্জনীয়⬇⬇*

মসজিদ ও মহল্লায় আলোকসজ্জা করা, আতশবাজি ফুটানো, শেরনি হালুয়া রুটি বানানো, সারারাত গল্প-গুজব, ঘুরা-ঘুরি ও হৈ-হুলোড় করে কাটিয়ে দেয়া। এ কাজগুলি সবই অপচয় ও বদ-রুসমের অন্তরভুক্ত। এতে না দুনিয়াবি ফায়দা আছে, না পারকালিন ফায়দা। এ রাতে রহমত ও মাগফিরাত প্রত্যাশি কোন মুনিনের জন্যই উচিত নয় ইবাদতে অবহেলা করে কাটিয়ে দেয়া। বদ-রুসম ও রেওয়াজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে হতভাগ্যদের কাতারে নিজেকে শামিল করা।
এছাড়াও এরাতে কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দলে দলে কবরস্থানে জমায়েত হবার যে রেওয়াজের প্রচলন আছে, তা শরিয়ত সম্মত না। এমনিতে নারীদের জন্য তো এর অনুমতি নেই। তাছাড়া পুরুষের জন্যও তো এমতাবস্থায় জিয়ারতের উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়া উচিত না। কেননা মুস্তাহাব পালন করতে গিয়ে কোন গোনাহে জড়িয়ে যাবার আশংকা থাকলে তা ছেড়ে দেয়াই উচিত। তাই এধরণের কাজ থেকে আমরা সবাই বিরত থাকব।

আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে সহিহ কথা গুলোর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন এবং সকলকে মনগড়া রসম পালন করা থেকে হেফাজত করুন। আমীন..!

Sunday, April 5, 2020

বর্তমান লকডাউনের সময়ে উলামায়ে কেরাম ও সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন । ঘরে থাকুন-নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন ও অন্যকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করুন ।

*উলামায়ে কেরাম এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকুন*

ইসলাম আমাদের যে কোনো পরিস্থিতির শান্ত ও সঠিক মূল্যায়নে উৎসাহিত করে। পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করণীয় সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বশর্ত। বর্তমানে যে বৈশ্বিক মহামারির পরিস্থিতি  তৈরি হয়েছে নিঃসন্দেহে তা ভয়াবহ। এ অবস্থায় কোনোরূপ ভাবাবেগের অনুগামী না হয়ে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের ও সরকারের দেওয়া শরয়ী নির্দেশনার উপর আমল করা অতি প্রয়োজন।

মুসলিম মাত্রেরই দৃঢ় বিশ্বাস, আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা-ই ঘটবে। এর বাইরে কিছুই ঘটবে না। এই বিশ্বাস আমাদের ঈমানের অংশ। ইসলাম আমাদের এই ঈমানী শিক্ষা দান করেছে। একই সাথে যথাসাধ্য সতর্কতা অবলম্বন ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও প্রদান করেছে।

এই বিশ্বাস ও কর্ম-পন্থার সমষ্টিই হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা। সাহাবা তাবেয়ীন ও সালাফে সালেহীনের নীতি ও কর্মপন্থাও তাই। বিশ্বাস ও কর্মের এই সমন্বিত আদর্শ অনুসরণ করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। নিঃসন্দেহে এটি তাকওয়া। তাকওয়ার মূল কথাই হচ্ছে আল্লাহর ভয় এবং যে অবস্থায় শরীয়তের যে নির্দেশনা তার অনুসরণ। শরীয়তে সাধারণ অবস্থায় যেমন সাধারণ বিধান রয়েছে তেমনি বিশেষ অবস্থায় আছে বিশেষ বিধানও। এটি শরীয়তের সৌন্দর্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য।

শরীয়তের বিধান ও নির্দেশনার ভেতরে থেকে বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও যথাসময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা কিছুতেই তাকওয়া ও তাকদীরে-বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়। মনে রাখতে হবে, তাকওয়া অর্থ বেপরোয়া হওয়া নয়, তাকওয়া অর্থ শরীয়তের নির্দেশনা পালনে সক্ষম হওয়া। আর এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও হক্কানী উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তই অনুসরণীয়।

দ্বীনদারী রক্ষা যেমন শরয়ী বিধি-বিধানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তেমনি দ্বীনদারীর সাথে জান-মালের সুরক্ষাও শরীয়তের বিধি-বিধানের অন্যতম লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। এ সম্পর্কেও আমাদের ফকীহগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন ফিকহী নীতি প্রণয়ন করেছেন। বিশদ আলোচনায় না গিয়ে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে শুধু একটি ঘটনা আলোচনা করছি।

খুলীফায়ে রাশেদ হযরত ওমর ফারূক রা.-এর ঘটনাটি অনেকেরই জানা আছে। সংক্ষেপে তা এই যে, সাহাবায়ে কেরামের এক জামাতসহ তিনি যখন শামের নিকটে পৌঁছে সংবাদ পেলেন যে, ওখানে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে তখন মুহাজির, আনসার ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের সাথে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে পরামর্শ করেন। পরামর্শে আক্রান্ত অঞ্চলে প্রবেশ করা ও না-করা দুই রকমের মতই এল। রেওয়ায়েতে আছে যে, ওমর রা. প্রথমে মুহাজির সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তাদের পক্ষ হতে দুই রকম মত আসে। এরপর আনসার সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করেন। তাদের পক্ষ হতেও দুই রকম মত আসে। এরপর অন্যান্য বিচক্ষণ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করেন। তারা একমত হয়ে  আক্রান্ত অঞ্চলে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ওমর রা. ঘোষণা করেন যে, তিনি মদীনায় ফিরে যাচ্ছেন।

এ সময় বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রা. এর সাথে তাঁর যে কথোপকথন হয়েছিল তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ তাঁকে বললেন

أَفِرَارًا مِنْ قَدَرِ اللَّهِ؟

আল্লাহর তাকদীর থেকে পলায়ন করে মদীনায় ফিরে যাচ্ছেন?

হযরত ওমর রা. বললেন,

لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيْدَةَ؟ نَعَمْ نَفِرُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ إِلَى قَدَرِ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ إِبِلٌ هَبَطَتْ وَادِيًا لَهُ عُدْوَتَانِ، إِحْدَاهُمَا خصبَةٌ، وَالأُخْرَى جَدْبَةٌ، أَلَيْسَ إِنْ رَعَيْتَ الخَصْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ، وَإِنْ رَعَيْتَ الجَدْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ؟

হে আবু উবাইদা! কথাটি যদি আপনি ছাড়া অন্য কেউ বলত! জ্বী, আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহর তাকদীরের দিকেই পলায়ন করছি। দেখুন, আপনার উটের পাল যখন কোনো চারণ ভূমিতে নামে, এর এক পার্শ্বে যদি তৃণলতাপূর্ণ সজীব ভূমি থাকে, অন্য পার্শ্বে থাকে বিরাণ ভূমি,  তখন আপনি সজীব ভূমিতে সেগুলোকে চরানোর ব্যবস্থা নিলে তা কি আল্লাহর তাকদীরের কারণেই নয়? ……. সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৭২৯

অর্থাৎ যথাসময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ও যথার্থ ব্যবস্থাগ্রহণে সক্ষম হওয়াও তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত। নিঃসন্দেহে তাকদীরে যা আছে তাই ঘটবে, কিন্তু মানুষের জানা নেই কী তার তাকদীরে আছে। তাকদীরে ভালো থাকলে ভালোর উপযোগী সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণই তার জন্যে সহজ হবে।

অতএব যথাসময়ে সঠিক করণীয় সম্পর্কে সচেতন হয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম হওয়াও একটি লক্ষণ যে, সম্ভবত তার পক্ষে আল্লাহর ফয়সালা ভালো।

বান্দার কর্তব্য, বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং জান-মাল, ইজ্জত-আবরু ইত্যাদি রক্ষার ক্ষেত্রেও শরীয়ত-প্রদত্ত প্রশস্ততা গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া। এটিও আল্লাহর পক্ষ হতে কল্যাণ-প্রার্থনার ও কল্যাণের প্রতি মুখোপেক্ষিতা প্রকাশের অন্যতম উপায়। তবে হাঁ, নীতিটি বলতে বা শুনতে যত সহজ বাস্তব ক্ষেত্রে এর সঠিক প্রয়োগ তত সহজ নয়। এর জন্যে বিজ্ঞ ও মুত্তাকী আলিমের দিক-নির্দেশনা অতি প্রয়োজন।

*উপরোক্ত নীতির আলোকে আমরা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে পারি। আমরা ইতিমধ্যে দেখছি যে,*

এক. করোনা ভাইরাসটি গোটা পৃথিবীতে ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও বিশ্বজুড়ে অচিন্তনীয়ভাবে বেড়ে চলেছে। ভারতেও আক্রান্তের হার বাড়ছে ( আল্লাহ তাআলা হেফাযত করুন।)

দুই. বিষয়টির প্রকৃতি ও ভয়াবহতাও ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি বোঝার দুটি উপায় রয়েছে,

ক. সাধারণ বিচার-বুদ্ধি এবং  খ. বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত।

সাধারণ বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একটু চিন্তা করলেই বিষয়টির ভয়াবহতা বুঝতে পারবেন। পৃথিবীর দেশে দেশে একের পর এক লকডাউন ঘোষিত হয়েছে। কয়েকটি উন্নত রাষ্ট্রেও প্রথম দিকে এই ভাইরাস স্বল্পমাত্রায় ও মন্থরগতিতে ছড়ালেও একটা পর্যায়ে এসে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কিছুটা ‘নিয়ন্ত্রণে’ এসেছে কোথাও এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

সৌদি আরবে পূর্ণ লক ডাউন সত্তে¡ও আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে এখনও আক্রান্তের সংখ্যা  অনেক বাড়ছে। (আল্লাহ হেফাযত করুন।)

খ. উপরোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ চিকিৎসক, অণুজীব বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ভাইরাসটির ধরন ও বিস্তারের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের সম্মিলিত বক্তব্য ও মতামতকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। শরীয়তে প্রত্যেক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ণের নীতি ও নির্দেশনা আছে।

তিন. সব ধরনের জমায়েত থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জুমা-জামাতের প্রসঙ্গটিও আলোচনায় এসেছে।

জুমা-জামাতের দুটো দিক রয়েছে। এক. সাধারণভাবে মসজিদে জুমা-জামাত কায়েম থাকা।  দুই. ব্যক্তিগতভাবে জুমা-জামাতে শামিল হওয়া।

মসজিদ, মসজিদের আযান, জামাত, জুমা এগুলো যেহেতু ইসলামের শি‘আর ও নিদর্শন তাই ন্যূনতম পর্যায়ে হলেও যথাসাধ্য তা কায়েম রাখার চেষ্টা করা কাম্য।

আর প্রত্যেক ব্যক্তির জুমা-জামাতে শামিল হওয়ার প্রসঙ্গে সাধারণ অবস্থায় ওজরহীন সাবালক পুরুষের জন্য মসজিদের জামাতে শামিল হওয়া বিশেষভাবে কাম্য হলেও বিশেষ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে।

চার. বর্তমান পরিস্তিতিতে জুমা-জামাত বিষয়ে মুসল্লীদের করণীয় সম্পর্কে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও এসে গেছে।

*নির্দেশনা কি কি অন্য আর্টিকেলে বর্ণনা করা হয়েছে সেটা আর বর্ণনা করার প্রয়োজন বোধ মনে করছেন।*

মনে রাখতে হবে যে, বিশেষ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে বিশেষ বিধান অনুসারে আমল করা এবং শরীয়তের ছাড় ও প্রশস্ততা গ্রহণ করাও তাকওয়া। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর আনুগত্যের প্রেরণা নিয়ে এর অনুসরণ আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের এবং তাঁর রহমত লাভের উপায়।

একইসাথে আরো যে বিষয়গুলো লক্ষণীয় তা হচ্ছে :

এক. সব রকমের গুনাহ ও পাপাচার বর্জন করে একান্তভাবে আল্লাহ-অভিমুখী হোন। তাওবা-ইস্তিগফার, দুআ-কান্নাকাটি, বেশি বেশি দরূদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, বিশেষত বালা মুসিবত থেকে মুক্ত থাকার আমলগুলোতে নিজেও মশগুল থাকুন, ঘরের স্ত্রী-পুত্র-পরিজনকেও মশগুল রাখুন। একই সাথে উলামায়ে কেরাম এবং চিকিৎসক ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কতামূলক নির্দেশনা-বিধিগুলোও মেনে চলুন।

দুই. ঘরে অবস্থানের সময়টুকুতে পরস্পরিক সুসম্পর্ক, সৎ ব্যবহার ও উত্তম আখলাকের চর্চা করুন। তবে সময় কাটানোর জন্য কোনো কোনো মহলের পক্ষ হতে প্রস্তাবিত ও সরবরাহকৃত বিভিন্ন মুভি ইত্যাদিতে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকুন।

স্ব স্ব পরিসরে প্রত্যেকে অন্যের সাথে কোমল ও দয়ার আচরণ করুন। দরিদ্র অভাবীদের প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসুন। হাদীস শরীফে আছে, তোমরা যমীনওয়ালাদের উপর রহম করো, তাহলে আসমানওয়ালা তোমাদের উপর রহম করবেন।

তিন. সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমগুলোতে সাধারণত যা হয়ে থাকে পরস্পর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, কটাক্ষ ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন। কারো মনে কষ্ট দেয়ার মতো কথা ও কাজ, বিশেষত মুত্তাকী উলামায়ে কেরাম এবং বৃদ্ধ-বয়স্ক ইবাদতপ্রাণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে কট‚ মন্তব্যের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করুন। মনে রাখতে হবে যে, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আল্লাহর রহমত। ব্যবস্থা যা কিছুই  আমরা গ্রহণ করি, আমাদের রক্ষা করবেন একমাত্র আল্লাহ। যারা আক্রান্ত হয়েছেন আল্লাহর হুকুমেই আক্রান্ত হয়েছেন, যারা রক্ষা পাবেন আল্লাহর হুকুমেই রক্ষা পাবেন।

তাই আল্লাহ তাআলা নারাজ হন এমন সব কথা, কাজ ও আচরণ থেকে অবশ্যই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

চার. প্রত্যেক মুমিন একে অপরের জন্য দুআ করুন। এক মুমিনের অনুপস্থিতিতে অন্য মুমিনের দুআ বিশেষভাবে কবুল হয়ে থাকে।  আর এক মুসলিম যখন অন্য মুসলিমের জন্য কল্যাণের দুআ করেন তখন ফেরেশতাগণ তার জন্য অনুরূপ কল্যাণ প্রার্থনা করেন।

পাঁচ. শবে বরাতে অর্থাৎ ১৪ শা‘বান (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে নফল ইবাদতের জন্য মসজিদে জমায়েত হওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজ নিজ ঘরে আমল করুন। বেশি বেশি দোআ ইস্তিগফারে মশগুল থাকুন এবং মুক্তির এ রজনীকে পাপ-মুক্তির, রোগ-মুক্তির ও বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির  সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাযত করুন এবং তাঁর রহমতের নিরাপদ বেষ্টনীর মধ্যে রাখুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

#নভেল #করোনা



আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে
গজব এলো ভাই, 
এমন বিপদ আর দেখিনি 
আঁতকে উঠি তাই। 
পাপকে মোরা পাপ ভাবিনি 
ছিলনা অনুশোচনা, 
তাই মনে হয় মোদের তরে 
নভেল করোনার সূচনা। 
সব বিপদেই মোদের আছে 
আল্লাহ নামের আশ্রয়স্থল, 
ক্ষমা চাও সবে জায়নামাজে 
ফেলতে হবে চোখের জল।
কুরআন, রোজা, নামাজ হবে 
এই বিপদের মহৌষধ,
সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন 
রইলো আমার অনুরোধ। 
ডাক্তারদের জীবন এখন 
সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে,
তারাই কিন্তু Real Hero 
এমন বিপদ রুখিতে।
দেশটা এখন Lock down 
থাকতে হবে বাড়িতে,
কিন্তু সবাই ছুটছে গ্রামে 
জায়গা যে নাই গাড়িতে। 
ছুটি দিল থাকতে বাসায় 
আমরা কি আর ওসব মানি,
সবার মাঝেই ঈদের আমেজ 
মনের ভিতর ফুরফুরানি।
একটু ভাবুন ভাই বোনেরা 
যাচ্ছেন কাছে প্রিয়জনের,
আপনি যেন না হন কারন 
তাদের কারো মরণের।
আবেগ নয় বিবেক দিয়েই 
গড়তে হবে প্রতিরোধ, 
স্বাস্থ্য বিধি মানতেই হবে 
করতে করোনার গতিরোধ।
এই বিপদে আমরা এখন 
সবচেয়ে বড় মজুতদার,
করোনা নয় ক্ষুধায় মরবো 
কে নেবে সেই লাশের ভার।
বিভেদ ভুলে এক হতেই হবে 
আম জনতা আর সরকার, 
এই অবস্থায় আজ সকলের 
মানুষ হওয়াই বড় দরকার।

দিল্লির তবলিগী মরকজে কী ঘটেছিল, শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত ।

☆এবারের শবে বরাতে তাওহীদী জনতার কাছে বিশেষ দোয়ার আবেদন ☆

আস্ সালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু আমার প্রিয় সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন আগামী 9 এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার লাইলাতুল বরাত,,( অর্থাৎ শবে বরাত) যাকে ভাগ্য রজনী ও বরকতময় রাত বলা হয়, ওই রাত্রে ও দিনে এবাদত করিলে বহুৎ সওয়াব অর্জন করার সুযোগ পাওয়া যায়।হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, এই তারিখে তোমারা দিনে রোজা রাখ এবং রাত্রে এবাদত করো: এই রাত্রে এবাদত করিলে হাজার রাত্রের এবাদত করার সওয়াব লাভ হয়! ইত্যাদি ,ইত্যাদি। অনেক ফজিলত আছে! কিন্তু মূল কথা হলো এইসব আমল শুধুমাত্র ইনফের আদি (অর্থাৎ নিজে নিজে একা একা ঘরে বসে) এইসব আমল করা হাদিসে পাক দ্বারা প্রমাণিত হয়! তাই বর্তমান এই মহামারীর অবস্থা সামনে রেখে এবং প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী মসজিদে ভিড় না করে নিজ নিজ ঘরে বসে, নামাজ, নাফিল সালাত, তিলাওয়াতে কুরআন, দুরুদে পাক, তাসবীহ তাহলীল , আল্লাহ পাকের জিকির, নিজ নিজ ঘরে বসে আদায় করুন। এবং বিশেষ করে চোখের অশ্রু জারি করিয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করুন, যেন এই মহামারী থেকে মানবজাতিকে  ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে এই করোণা নামক মহামারী  থেকে হেফাজত দান করুন। এবং আমি মুহাম্মদ আব্দুল ওয়ারিসের জন্য বিশেষ করে দোয়া করবেন, আমিও দোয়া করব ইনশাআল্লাহ।

یہ لوگ نہ اسلام کےمخلص ہیں نہ سیکولرازم سے واقف

*یہ لوگ نہ اسلام کے مخلص ہیں نہ سیکولرزم سے واقف*

      ہم وزیر اعظم کے بیان سے زیادہ ان لوگوں کے بیان اور موقف و مضمون کی نندا کرتے ہیں جو بڑی خوبصورتی اور کمال چالاکی سے اسے قبول کرنے کے داعی ہیں ۔مودی جی اپنے مشن پر ہیں ان سے کیا شکوہ مگر ہمارے اپنے جو ان کے مشن کی خاطر شرک کے چور دروازے سے گھسنے پر راضی ہوں بلکہ اسکی وکالت کریں وہ سخت قابل مواخذہ ہیں۔ ایسے لوگ صحیح معنی میں نہ اسلام کے مخلص ہیں نہ سیکولرزم سے واقف بلکہ وہ صرف اپنے مخلص ہیں،  موقع پرستی ان کی تحریروں کا خاصہ ہے، ہم اس ملک میں رہتے ہیں اپنے تشخص کے ساتھ اور آخری سانس تک انشاءاللہ اپنے تشخص کے ساتھ رہیں گے، جام توحید پیتے ہیں اگر چہ پلانے میں ہم نے کوتاہی کی مگر اسکا یہ مطلب نہیں کہ ہم خود بھی اس جام حیات سے محروم ہوجائیں، ہم صاف کہتے ہیں کہ سیکولرزم کے نام پر ہم جیتے جی نہ متحدہ کلچر قبول کر سکتے ہیں نہ متحدہ تہذیب چہ جائیکہ ہم وہ رسوم اپنائیں جن پر شرک کا شائبہ بھی گزرے، اکثریت کی ناراضگی کا خوف دکھا کر متحدہ کلچر بلکہ ہندو مت کی ایک عبادت میں شرکت کی دعوت سے کیا وہ خوش ہو جائیں گے ؟ جی نہیں! وہ تو گھر واپسی چاہتے ہیں،  اس سے کم پر راضی نہیں،  یہود ہوں کہ مشرکین وہ تب ہی خوش ہو سکتے ہیں جب آپ ان کی ملت میں گم ہو جائیں ، نادان انھیں خوش کرنے کی سوچ رہے ہیں اور ڈر رہے ہیں کہ وہ شامل نہ ہوئے تو الگ تھلگ پڑ جائیں گے ، *ارے یہ لوگ CAA کے ذریعہ آپ کو پہلے ہی الگ کر چکے ، کیا یاد نہیں کہ مہینہ بھر قبل اپ اسی کے لیے لڑ رہے تھے،  اور یوں بھی آپ کو اللہ نے ملت حنیفی کی الگ تھلگ شناخت عطا کی ہے ، توحید خالص ہی آپ کے لیے وجہ امتیاز ہے ، آپ کو تعلیم جو دی گئی ہے وہ بہت صاف اور واضح ہے انى وجهت وجهى للذى فطر السماوات والارض حنيفا وما انا من المشركين اور آپ ڈر کی بات کر رہے ہیں جبکہ مطالبہ ایمان سے پہلے کفر اور کفر کی علبردار طاقتوں کے انکار کا ہے و من يكفر بالطاغوت و يؤمن بالله.*
                  ہم یہاں کسی طرح کے شخصی موقف اور سیاسی پینترے بازی سے گریز کرتے ہوئے محض اصولی گفتگو کر رہے ہیں،  حالانکہ ان حقائق کا پردہ فاش کرنا بھی ضروری ہے تاکہ بھولے عوام متنبہ ہو سکیں۔
                  سیکولرزم کا اہم اصول یہ ہیکہ ہر شخص اپنی پسند کے نظریہ کا انتخاب کر سکتا ہے اور اس پر عمل کر سکتا ہے، جب کسی نظریہ کو تھوپا  جانے لگے تو وہ استبداد کہلاتا ہے ، یہ بھی استبدادی نظام کی طرف لے جانے اور سب کو ایک رنگ میں رنگ ڈالنے کی ایک پر فریب کوشش ہے، اس لیے ہم کسی ایسی "روشنی" کے قائل نہیں جو اندھیروں میں جلے اور تاریکی پھیلائے ، کیونکہ ہم وہ روشنی رکھتے ہیں جو تاریکیوں کا سینہ چاک کرتی ہے ، دل و دماغ منور کرتی اور شرک کی گھنگھور  گھٹاؤں میں جگمگاتی ہے ، ہم اکثریت کے ساتھ حسن سلوک اور رواداری کے قائل ہیں مگر ان هذا صراطى مستقيما پر ہمارا اعتماد ہے ، *جب بھی لات و ہبل کی جے پکاری جائے تو ہم ایک ہوں یا ایک ہزار ہمارا نعرہ مستانہ اللہ اکبر ہی رہا ہے ، ہمارے سامنے اسوہ ابراہیمی بھی ہے اسوہ نبوی بھی ہے صحابہ کی روشن تاریخ اور مومنانہ مواقف بھی ہیں ،مکہ مکرمہ میں  مشرکین کی ظالمانہ تاریخ اور مومنین کی مومنانہ استقامت بھی ہے ، اندازہ یہ ہوا کہ ایسے لوگ  ظاہر پرست ہیں ، مظاہر کے لیے لڑتے ہیں،  جیتے ہیں اور جھکتے ہیں،  انھیں مسجد کے ڈھانچہ سے تو غرض ہے مگر مسجد میں بار بار یاد کرائے جانے والے توحید خالص کی صحیح فہم بھی نہیں، قران کریم کی روح سے شناسائی تو دور ان پر قران کا وہ مضمون بھی کھلا نہیں جسے قرآن نے سب سے زیادہ تکرار و طاقت اور اسلوب بدل بدل کر بیان کیا ہے،  یہی وہ رویہ ہے جس نے رفتہ رفتہ مسلمانوں کی اکثریت سے توحید خالص کا تصور ہی مٹا ڈالا اور وہ ہر اس نظام پر خدا کو راضی سمجھنے لگے جس نظام میں زندگی بسر کرتے ہیں.*
  قران نے جہاں استحکام کی بشارت دی ہے وہاں لا يشركون بى شيئا کی شرط لگائی ہے ، پہلے ہی ہم اس شرط کو پورا کیا کرتے بلکہ اکثریت اسے پورا کرنے کے خیال سے بھی عاری ہے اور اب اس طرح کی لچک دار دعوت خدا معلوم کیا حال کرے گی۔
                     اس لیے ہماری درخواست ہے کہ موقع پرستی کے نتیجہ میں لکھے گئے مضامین پر کوئی توجہ نہ دی جائے۔
                 وزیر اعظم کے ایسے اعلانات جو "اثمهما اكبر من نفعهما " کے قبیل سے ہوں ان سے گریز کیا جائے۔
                 آپ اپنی نارمل زندگی یوں گزاریں جیسے کچھ ہوا ہی نہیں، اور نہ کچھ نیا ہونے والا ہے،  بڑے بڑے طوفان چراغ توحید کی لو کم نہ کر سکے تو ۹ منٹ کی کیا حیثیت، یہ بھی گزر جائیں گے۔ اپ اللہ کا شکر ادا کیجئے کہ اس نے ہم سب کو مسلمان بنایا ہے ، ان ۹ منٹ میں خاص طور پر اپنے گھر کے کسی گوشہ میں سر سجدہ میں رکھ دیجئے اور نم آنکھوں کے ساتھ اعتراف کیجئے کہ یا اللہ اپ کا صد ہزار شکر ہے کہ ہمیں آپ نے توحید کی روشنی عطا کی ، یااللہ اب ان دیا جلا کر شکتی کا مظاہرہ کرنے والوں کو اپنی شکتی سے واقف کرا دے اور ان کے دلوں کو اپنے نور سے منور فرما دے ۔ وفقنا الله و إياكم لما يحب ويرضى