Tuesday, April 7, 2020

দারুল উলুম দেওবন্দে প্রবীণ ছাত্রের মৃত্যু

#দারুল_উলূম_দেওবন্দের_ছাত্রদের_মধ্যে_বয়সে_সবচেয়ে_প্রবীণ_ছাত্র_মুহাম্মাদ_মাজহার_আলী, ঔরাঙ্গবাদ, মহারাষ্ট্র। বয়স ৭৮ বছর। আজ জুমু'আর নামাজের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। অ্যাম্বুলেন্স-যোগে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর #স্বাভাবিক_মৃত্যু_হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

আজ থেকে তিন বছর পূর্বে ৭৫ বছর বয়সে সংসার-পরিবার ছেড়ে ইলমের তীব্র পিপাসা নিয়ে, পরিপূর্ণ আলিমে দ্বীন হওয়ার লক্ষ্যে তিনি এখানে ভর্তি হন। পেশাগত ভাবে তিনি স্কুল-শিক্ষক ছিলেন। আধুনিক শিক্ষার বেশ অনেক ডিগ্রিই তাঁর অর্জনে ছিল। তাঁর মুখেই শোনা, শিক্ষকতার সূত্রে তিনি ইরানেও কিছু সময় কাটিয়েছেন।  বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতাও তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এই বয়সে উপনীত হয়েও একজন গড়পড়তা ছাত্রের থেকেও তিনি বেশি মেহনত করতেন। মসজিদে কদিমের ৮ নম্বর রুমের সামনে দিয়ে যখনই যেতাম, বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে অধ্যয়নরত পেতাম। এই বয়সেও তাঁর ছাত্রসুলভ মেহনত, আচরণ, একাগ্রতা, দায়বদ্ধতা, অধ্যবসায় ইত্যাদি দেখে প্রাচীন যুগের আমৃত্যু ইলম-পিপাসু সাধকদের কথা মনে পড়তে বাধ্য।

তিনি বলতেন, আমি চাই ছাত্রাবস্থাতেই আমার মৃত্যু হোক। অদ্ভুতভাবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর পরিপূর্ণ আলিমে দ্বীন হওয়া ও ছাত্রাবস্থাতেই মৃত্যু হওয়ার দুটি ইচ্ছাকেই একইসাথে পূরণ করেছেন। এ বছর তিনি দাওরা হাদীস (শেষ বর্ষ) -এর ছাত্র ছিলেন। বাৎসরিক পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় তিনি এখনও খাতায় কলমে দারুল উলূম দেওবন্দের ছাত্র। আবার অন্যদিকে কিছুদিন আগেই তাঁর হাদীসের সমস্ত পাঠও সম্পন্ন হয়েছে।

আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন এবং তাঁর সন্তান সন্ততি ও পরিবার পরিজনকে 'সবরে জামীল' -এর তাউফিক দিন।

No comments:

Post a Comment