Thursday, April 16, 2020
নাফিসার প্রার্থনা কি মঞ্জুর হয়ে গেল********************************নাফিসা উমর। কাশ্মিরের এক মেয়ে। যার একটি দোয়া (প্রার্থনা)-র কথা উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক অরবিন্দ মিশ্র। কাশ্মিরে লকডাউন ছিল দীর্ঘ সাতমাস। এটা নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা কথা উঠতে থাকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন সাংসদকে এনে কাশ্মীর পরিদর্শন করানো হয়। এর আয়োজন ও ব্যবস্থা করে ভারত সরকার। সেই পরিদর্শকদলের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় দেশের কয়েকজন 'বাছাই করা' সাংবাদিককে, যাতে কাশ্মির নিয়ে রিপোর্টিং করা হলেও তা যেন সরকারের প্রতিকূলে না যায়। সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন ইকোনমিক টাইমসের অরবিন্দ মিশ্র। কয়েকদিন আগে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ওই কাশ্মির ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পোস্ট করেন, যেটি ভাইরাল হয়। এখানে পেশ করলাম সেই ভাইরাল হওয়া পোস্টটির সম্পাদিত বঙ্গায়ন :শ্রীনগরের এক গলির মুখে একটি বাড়ির জানালায় দেখতে পাই এক পর্দানশীন মেয়েকে। মেয়েটি আওয়াজ দিতে আমি থেমে যাই। আমাকে দেখে বলেন, 'ভাইয়া ! আপনি বিলালের বন্ধু, দিল্লিতে থাকেন, তাই না?'আমি বললাম, হ্যাঁ।তখন মেয়েটি বললেন, 'বিলাল আপনার খুব তারিফ করে। বলে, আপনি খুব বুঝদার মানুষ। মানুষের দুঃখ বোঝেন। আমি নাফিসা উমর। বিলালের ফুফাতো বোন...'সময়ের স্বল্পতা বুঝে মেয়েটি তাড়াহুড়ো করে যে কথাগুলো বলেছিলেন, তাঁর সেই কথাগুলো শুনে আমি কয়েকদিন ঘুমাতে পারিনি। আর সেই কথাগুলো আজ আপনাদের কাছে বলাটা জরুরি মনে করছি। নাফিসা বলেছিলেন :'যদি কোনো জায়গায় লাগাতার সাত মাস ধরে কারফিউ চলে,বাড়ি থেকে বের হওয়া দূরের কথা, বাইরে উঁকি দেওয়াও কঠিন হয়,এলাকাজুড়ে ৮–৯ লক্ষ সেনা মোতায়েন থাকে,ইন্টারনেট বন্ধ থাকে,মোবাইল বন্ধ থাকে,ল্যান্ডলাইন ফোনও বন্ধ থাকে,বাড়ি বাড়ি থেকে শিশু-যুবক-বৃদ্ধসহ হাজারো বেকসুরদের গ্রেফতার করা হয়ে থাকে,ছোট-বড় সমস্ত নেতাদের জেলবন্দি করা হয়ে থাকে,স্কুল-কলেজ-দপ্তর সব বন্ধ থাকে,তাহলে কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে মানুষ?তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে? অসুস্থদের অবস্থা কী হবে?এসব কথা ভাবার মতো কেউ নেই।যদি এলাকার জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ অবসাদে ভুগতে ভুগতে মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়ে পড়ে,বাচ্চারা আতঙ্কিত হয়ে থাকে,ভবিষ্যত থাকে অন্ধকারে,নির্যাতন-নিপীড়ন চরমে পৌঁছয়, আলোর কোনো রেখা দেখা না যায়,অবস্থা ভালো করার মতো কেউ যদি না থাকেএবং গোটা দুনিয়া চুপচাপ তামাশা দেখতে থাকে...'নাফিসা এরপর কাঁদতে কাঁদতে বলেন :'আমরা সব সহ্য করছি। যথেষ্ট সহ্য করছি। কিন্তু ওই সময় অন্তর কেঁদে ওঠে, মনটা বড়ো ছটফট করে, যখন শুনতে হয়, ওদিকের কিছু লোক বলে, ''ভালোই হয়েছে, ওদের সঙ্গে এরকমই হওয়া দরকার ছিল''! তবুও আমরা ওদের জন্য, কিংবা অন্য কারোর জন্যেও, কখনো বদদোয়া করিনি, অভিশাপ দিইনি। কারোর খারাপ চাইনি। শুধু একটাই দোয়া/প্রার্থনা করেছি, যাতে সমস্ত মানুষ এবং গোটা দুনিয়া আমাদের অবস্থা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারে।অরবিন্দ ভাইয়া, আপনি দেখে নেবেন, আমার প্রার্থনা খুব শীঘ্রই মঞ্জুর হবে।'এবার আমি জানতে চাইলাম, 'আপনি কী প্রার্থনা করেছেন, বোন?'তখন নাফিসা ডুকরে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে যা বলেছিলেন—আমার কানে অনেক দিন বেজেছে—এখন চোখের সামনে দেখতেও পাচ্ছি—তাঁর ব্যথা অনুভব করার চেষ্টা করবেন, হুবহু তাঁর কথাগুলোই তুলে ধরছি :'ইয়া আল্লাহ ! যাকিছু আমাদের ওপর হচ্ছে তা যেন অন্য কারোর উপর না হয়, শুধু তুমি এমন একটা কিছু করে দাও যাতে গোটা পৃথিবী কিছুদিনের জন্য নিজেদের ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে বাধ্য হয়, সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়, থেমে যায়। তাহলে হয়তো দুনিয়া এটা অনুভব করতে পারবে যে, আমরা বেঁচে আছি কেমন করে !'আজ আমরা সবাই যে যার ঘরে বন্দি। আমার কানে নাফিসার সেই কথাগুলো যেন বাজছে— 'ভাইয়া, আপনি দেখে নেবেন, আমার দোয়া খুব শীঘ্রই কবুল হবে...!' সৌজন্যে- মোহাম্মদ হাদীউজ্জামান সাহেব।
Sunday, April 12, 2020
উত্তর করিমগঞ্জের সমষ্টির অধীনে সুতারকান্দি জারাপাতা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারে বন্দি থাকা ভারতীয় ও অসহায় লোকদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে গতকাল সীমান্ত এলাকায় উপস্থিত হলেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক শ্রীকমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ । সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করেন কাঁটাতারের ভিতর অসহায় মানুষদের এবং তাদের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন ।News Published in Dainik Samayik Prosango on dated 12-04-2020
#বিপদগ্রস্থদের_দান_ও_ছবি_তুলা_প্রসঙ্গ:লকডাউনের ফলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ আটকা পড়েছেন। কর্মসংস্থানে কেউ কোথাও যেতে পারছেন না। ফলে খাদ্য সংকট ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে।যার জন্য বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও, সংগঠন অথবা ব্যক্তিগতভাবে তাদের যথাসাধ্য বিপদগ্রস্থদের সাহায্য করে যাচ্ছেন।যা প্রশংসাযোগ্য। ইদানিং কিছু ত্রাণ বন্টন ও ছবি তোলা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক দেখা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে দান সদকা গোপনে বা প্রকাশ্যে করার বিধান আছে। কিন্তু গোপনে দান সদকা করা উত্তম। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (দঃ) বলেছেন উত্তম সদকা হল ডান হাত দিয়ে দান করলে বাম হাত যাতে টের না পায় (অর্থাৎ অত্যন্ত গোপনীয়)। পক্ষান্তরে প্রকাশ্যে দান-সদকার কথা পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২৭১ নং আয়াতে উল্লেখ আছে। তবে প্রকাশ্যে সদকার ক্ষেত্রে নিয়ত পরিশুদ্ধ হতে হবে(অর্থাৎ নিজেকে দাতা হিসাবে জাহির না করা)। প্রকাশ্যে দান করার (ছবিসহ) উদ্দেশ্যে যদি অন্যদেরকে উৎসাহিত করা হয় তবে ইহা ইসলামের সম্পূর্ণ বৈধ।কেননা অন্যান্য ধনীরা উৎসাহিত হয়ে দান করলে আখেরে বিপদগ্রস্তদের সাহায্য হবে। তাই, আসুন সবাই মিলে বিপদগ্রস্তদের যতটুকু সম্ভব সাহায্য করি। যারা দিচ্ছেন তাদের আরও উৎসাহিত করি।আর হ্যাঁ, ছবি দেওয়ার সময় যাতে ওদের মুখমন্ডল প্রকাশ্যে না আনি (মুখে কোন ষ্টিকার বসিয়ে দিলে হবে) । কারণ ওদের ও আত্মসম্মান আছে। জেনে রাখবেন, #ওরা_ভিখারী_নয়, #ওরা_অভাবী।ধন্যবাদ।।
#মুফতি_মিজানুর_রহমান_সাঈদ_এর #জরুরী_আহ্বানসম্প্রতি ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বের বিজ্ঞ বিজ্ঞ মুফতিয়ানে কেরামের একটা যুগান্তকারী ফতোয়াকে নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা সমালোচনা চলছে।করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মসজিদসমূহে 'লকডাউন' বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় যে সকল পুরুষ মসজিদে এসে জুমা আদায় করতে ভীষণভাবে অপারগ হয়ে পরেছেন, তারা নিজেদের বাসা-বাড়ীতে জুমা আদায় করবেন নাকি যোহর ? শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকী উসমানিসহ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু মুফতিয়ানে কেরামের ফতোয়া হচ্ছে, মুসলিমপ্রধান দেশসমূহে জুমা আদায় না করে যোহর আদায় করা। কাফের প্রধান দেশে জুমা আদায় করতে চাইলে আদায় করা। বাংলাদেশের মুফতিদের মধ্যে আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক হা., মুফতি দেলাওয়ার হুসাইন হা. অন্যতম। এবং আমি অধমও তাঁদের দেয়া ফতোয়ার সাথে একাত্বতা পোষণ করেছি। এ সম্পর্কে আমার বক্তব্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ ।অপরদিকে বাংলাদেশের আরো কিছু বিজ্ঞ মুফতিদের ফতোয়া হচ্ছে, বাসা-বাড়ীতে কিছু শর্তের আলোকে যোহর নয়, বরং জুমা আদায় করা। এদের মধ্যে, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ফকীহ ও আহলে ইলম আল্লামা মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী হাফি. ও মুফতি মানসুরুল হক হাফি. অন্যতম । তবে আমরা যারা যোহর আদায় করার পক্ষে ফতোয়া দিয়েছি, আমাদের দ্যার্থহীন বক্তব্য হলো, যে কেউ বিজ্ঞ কোন আহলে ইলমের ফতোয়া অনুসরণে জুমা আদায় করলে তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে পুনরায় তাকে যোহর আদায করতে হবে না। যদিও আমাদের নিকট সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ফতোয়া হচ্ছে, যোহর আদায় করা, জুমা নয়। ফতোয়া ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো, বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন। নবাগত বিষয়ে আহলে ইলমদের নিজস্ব 'ইজতিহাদ' গবেষণা করার ন্যায্য অধিকার আছে। বিধায়, পরস্পরের মাঝে মতভিন্নতা হওয়াটা স্বাভাবিক। স্বয়ং শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানি দা:বা.ও তাঁর লিখিত ফতোয়ার মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি খুব শ্রদ্ধার সাথে স্বীকৃতি দিয়েছেন।তাই এটাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সমালোচনার দ্বার উন্মোচন করা, কোন আহলে ইলম বুযুর্গের মান - মর্যাদা কে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাঁর শানে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উলামায়ে দেওবন্দের আদর্শ পরিপন্থী । সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান, মেহেরবানী করে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করি। তাহকীক ছাড়া কারো ব্যাপারে অহেতুক গুজব রটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকি।যার কাছে যাকে গ্রহণযোগ্য মনে হয় তাঁকে অনুসরণ করে আমল করি। আল্লাহ সকলকে বুঝার তাওফিক দান করুন। والله تعالى أعلم بالصواب বিনীত মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ। ঢাকা,বাংলাদেশ ১২|০৪|২০২০ইং
Subscribe to:
Posts (Atom)